ঈদের ছুটি মানেই তো আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটানো। পরিবারের সবাই মিলে ঘুরে বেড়ানো আর নানা স্বাদের খাবারের রসনায় ডুব দেওয়া ছাড়া আর কী চাই! তবে অনেকেই তা করেন না। মুঠোফোন কিংবা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসে সময়টাকে আটকে রাখছেন। ঈদের ছুটিতেও যদি এভাবে সময় চলে যায় ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে, তা হবে নিতান্তই দুঃখজনক।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ শাহনীলা তৈয়ব। তিনি বলেন সারাবছর নানা কাজের ব্যস্ততায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো হয়ে উঠেনা বেশির ভাগ মানুষেরই। তাই ঈদের ছুটিতে পরিবারকে সময় দিন।
তিনি বলেন, স্যোশাল মিডিয়ার যুগে ছবি, রিলসে হয়তো ডুবে থাকতে ভালোই লাগে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই সময়ের হিসাবটা ঠিক রাখা জরুরি।
একসঙ্গে খাবার খাওয়া
ঈদের এই ক’টাদিন অন্তত পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে টেবিলে বসে খাবার খান। আর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে থাকলে আত্মীয়-পরিজনদের নিয়ে অন্তত একবেলা খেতে বসুন।
একসঙ্গে সময় কাটান
সারাদিন ভার্চুয়াল জগতের বন্ধুদের সঙ্গে সময় নষ্ট না করে পরিবারের সদস্যরা মিলে একসঙ্গে সময় কাটানোর ওপর গুরুত্ব দিন। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার মন-মানসিকতা ভালো থাকবে।
সারা দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে আড্ডা দিন, সিনেমা দেখুন কিংবা লুডো ও ক্যারামের মতো ঘরোয়া গেম খেলতে পারেন। নিজেদের মধ্যে কথা বলার সময় মোবাইল ফোন বা অন্যান্য গ্যাজেট দূরে রাখুন। এতে সবার শারীরিক ও মানসিক উপস্থিতি নিশ্চিত হবে এবং সময়টা উপভোগ্য হয়ে উঠবে।
কথা বলুন সবার সঙ্গে
প্রচুর কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলুন। বিশেষ করে পরিবারের বয়স্ক ব্যক্তিদের আলাদাভাবে সময় দিলে তারা খুশি হবেন। পরিবারের ছোট সদস্যদেরও অবহেলা করা যাবে না। ছোটরা যদি কোনো কিছু বলতে চায়, তবে তাদের কথাও গুরুত্ব দিয়ে শুনুন। এ ছাড়া আপনার জীবনে নানা সমস্যার বিষয়ে তাদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করুন। পরিবারের অন্য সদস্যদের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করুন। তাদেরকে সব সময় আগলে রাখুন।
সন্তানদের সময় দিন
সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। ভাগ করে নিন নিজের কথা। আপনার শৈশব কেমন ছিল, ওর বয়সে আপনি কী করতেন, এমন নানান গল্প করুন। ওকে নিয়ে বই পড়ুন, ওর সঙ্গে ছবি আঁকুন কিংবা খেলুন।
পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করা
পরিবারে একে অপরের কাজে সহযোগিতা করতে পারেন। তাই সবাই একসঙ্গে মিলে ঘরের বিভিন্ন কাজ করে ফেলুন।
খুলনা গেজেট/জেএম